সমাজসেবা অধিদফতর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৫ August ২০২১

হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি

হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি

হিজড়া সম্প্রদায় বাংলাদেশের  মোট জনসংখ্যার একটি ক্ষুদ্র অংশ হলেও আবহমান কাল থেকে এ জনগোষ্ঠী অবহেলিত ও অনগ্রসর গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত। সমাজে বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার এ জনগোষ্ঠীর পারিবারিক, আর্থসামাজিক, শিক্ষা ব্যবস্থা, বাসস্থান, স্বাস্থ্যগত উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ সর্বোপরি তাদেরকে সমাজের মূল স্রোতধারায় এনে দেশের সার্বিক উন্নয়নে তাদেরকে সম্পৃক্তকরণ অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। সমাজসেবা অধিদফতরের প্রাথমিক জরিপ মতে বাংলাদেশে হিজড়ার সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার।

 

কর্মসূচির সংক্ষিপ্ত পটভূমি:

২০১২-১৩ অর্থ বছর হতে পাইলট কর্মসূচি হিসেবে দেশের ৭টি জেলায় এ কর্মসূচি শুরু হয়। ৭টি জেলা হচ্ছে যথাক্রমে- ঢাকা, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, পটুয়াখালী, খুলনা ,বগুড়া এবং সিলেট। ২০১২-১৩ অর্থ বছরে মোট বরাদ্দ ছিল ৭২,১৭,০০০/-(বাহাত্তর লক্ষ সতের হাজার) টাকা। ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে নতুন ১৪ টি জেলায় কর্মসূচি সম্প্রসারণ করে মোট ২১টি জেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছে। জেলাসমূহ যথাক্রমে- ঢাকা, গাজীপুর, নেত্রকোণা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, কুমিল্লা, বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ,খুলনা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, সিলেট।  উক্ত অর্থ বছরে ২১ টি জেলার জন্য মোট বরাদ্দ ছিল ৪,০৭,৩১,৬০০/- (চার কোটি সাত লক্ষ একত্রিশ হাজার ছয়শত টাকা)। ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে পূর্বের ২১ জেলায় বাস্তবায়িত হয়।উক্ত অর্থ বছরে কর্মসূচির মোট  বরাদ্দ ছিল ৪,৫৮,৭২,০০০/-(চার কোটি আটান্ন লক্ষ বাহাত্তর হাজার) টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে পূর্বের ২১ জেলাসহ নতুন ৪৩ টি জেলায় কর্মসূচি সম্প্রসারন করে মোট ৬৪ জেলায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে মোট বরাদ্দকৃত অর্থের  পরিমাণ ৮,০০,০০,০০০/- (আট কোটি) টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে মোট বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ৯,০০,০০,০০০/-(নয় কোটি) টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে মোট বরাদ্দকৃত অর্থের  পরিমাণ ১১,৩৫,০০,০০০/-(এগার কোটি পয়ত্রিশ লক্ষ) টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে মোট বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ১১,৪০,০০,০০০/- (এগার কোটি চল্লিশ লক্ষ) টাকা। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে মোট বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ ৫,৫৬,০০,০০০/- (পাঁচ কোটি ছাপ্পান্ন লক্ষ) টাকা। ২০২০-২১ অর্থ বছরে মোট বরাদ্দকৃত অর্থের  পরিমাণ ৫,৫৬,০০,০০০/- (পাঁচ কোটি ছাপ্পান্ন লক্ষ) টাকা।

বাস্তবায়িত কার্যক্রম সমূহ :

স্কুলগামী হিজড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৪ স্তরে (জনপ্রতি মাসিক প্রাথমিক ৭০০, মাধ্যমিক ৮০০, উচ্চ মাধ্যমিক ১০০০ এবং উচ্চতর ১২০০ টাকা হারে) উপবৃত্তি প্রদান ;

৫০ বছর বা তদুর্ধ বয়সের অক্ষম ও অসচ্ছল হিজড়াদের বিশেষ ভাতা জনপ্রতি মাসিক ৬০০ টাকা প্রদান ;

৫০ দিনে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মক্ষম হিজড়া জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধি ও আয়বর্ধনমূলক  কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করে তাদের সমাজের মূল স্রোতধারায় আনয়ন ;

প্রশিক্ষণোত্তর আর্থিক সহায়তা ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা প্রদান।

       

 

পরিসংখ্যান

 

অর্থবছর

উপকারভোগীর সংখ্যা

 

শিক্ষা উপবৃত্তি

ভাতা

প্রশিক্ষণ

প্রশিক্ষণ উত্তর সহায়তা

মোট উপকৃতের সংখ্যা

২০১২-১৩

১৩৫

চালু হয় নি

৩৫০

চালু হয় নি

৪৮৫ জন

২০১৩-১৪

৭৬২

১০৭১

৯৫০

১২০

২৯০৩ জন

২০১৪-১৫

৭৮৯

১৩০০

৮৫০

৩৪০

৩২৭৯ জন

২০১৫-১৬

১৩২৯

২৩৪০

১৫০০

১৫০০

৬৬৬৯ জন

২০১৬-১৭

১৩৩০

২৩৪০

১৬৫০

১৬৫০

৬৯৭০ জন

২০১৭-১৮

১৩৫০

২৫০০

১৯০০

১৯০০

৭৬৫০ জন

২০১৮-১৯

১২৪৭

২৫০০

১৯০০

১৯০০

৭৫৪৭ জন

২০১৯-২০

১২২৫

২৬০০

১৯২০

-

৫৭৪৫ জন

২০২০-২১

১২২৫

২৬০০

১৯২০

-

৫৭৪৫ জন

২০২১-২২ 

১২২৫

২৬০০

১৯২০

-

৫৭৪৫ জন (সম্ভাব্য)

 

 

সেবা প্রাপ্তির স্থান/অফিসের নাম: উপজেলা/শহর সমাজসেবা অফিস

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা / কর্মচারী: উপজেলা/শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা

 

সেবা প্রদান পদ্ধতি (সংক্ষেপে):

বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে উপজেলা/শহর  সমাজসেবা অফিসার বিজ্ঞপ্তি প্রচার করেন অত:পর নির্ধারিত ফরমে আগ্রহী ব্যক্তিদের সমাজসেবা অফিসার বরাবর আবেদন করতে হয় । প্রাপ্ত আবেদন ইউনিয়ন কমিটি কর্তৃক সরেজমিনে যাচাই-বাছাই করে প্রস্তাব আকারে উপজেলা কমিটিতে প্রেরণ করে। অত:পর উপজেলা কমিটি  যাচাই বাছাই করে বরাদ্দ অনুসারে উপকারভোগী নির্বাচন করে। নির্বাচিত ব্যক্তির নামে ব্যাংক হিসাব খোলা এবং কেন্দ্রীয় হিসাব হতে ভাতা বা উপবৃত্তির টাকা স্থানান্তর করে নির্বাচিত ব্যক্তিকে অবহিতকরণ পূর্বক ভাতা বা উপবৃত্তি বিতরণ সম্পন্ন করা হয় ।

১৮ বছর বয়সের উর্ধ্ব কর্মক্ষম ব্যক্তিদেরকে ট্রেড ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় । প্রশিক্ষণার্থীদেরকে প্রশিক্ষণোত্তর অফেরতযোগ্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

সেবা প্রাপ্তির প্রয়োজনীয় সময়:

. নতুন বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আবেদনের ০৩ মাসের মধ্যে;

. পুরাতন বা নিয়মিতদের ক্ষেত্রে ০৭ কর্মদিবস

 

প্রয়োজনীয় ফি/ট্যাক্স/আনুষঙ্গিক খরচ:  বিনামূল্যে

 

সংশ্লিষ্ট আইন/বিধি/ নীতিমালা:

হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি নীতিমালা ২০১৩

 

নির্দিষ্ট সেবা পেতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী প্রতিকারকারী কর্মকর্তা :

১. চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ

২. জেলা প্রশাসক, সিটি করপেরেশন / পৌরসভার ক্ষেত্রে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা / আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা

৩. কর্মসূচি পরিচালক

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 


Share with :

Facebook Facebook